রাজধানীর বাড্ডা থেকে জোড়া অস্ত্র ও গুলিসহ আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান গ্রুপের আমজাদ হোসেন সোহেল ওরফে চাক্কু সোহেলসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- মহিউদ্দিন মহি ও জাহিদুল ইসলাম। এদের গ্রুপের আরও দুজনের নাম–পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
পরে দুই দিনের রিমান্ডে এসে আসামিরা স্বীকার করে পলাতক আসামির বাদশাহের অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ করেন বলে শিকার করে। এছাড়া তারা জানায় রহিমের বাসায় আরও অস্ত্র রয়েছে। পলাতক আসামি রহিমের বাসা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি অস্ত্রসহ চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা হয়। ১৩ রাউন্ড গুলি ও একটি পিস্তল ও একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, বাড্ডা এলাকায় কেউ নতুন ভবন নির্মাণ করলে জিসানের নামে চাঁদা তুলত তারা। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখাত। এতেও কাজ না হলে যার কাছে চাঁদা চাওয়া হতো তার স্বজনদের ভয়ভীতি দেখান, আহত করত। বাড্ডা এলাকায় বসবাসরত ব্যবসায়ীদেরও টার্গেট করত তারা।
পুলিশ বলছে, বাড্ডা এলাকা কেন্দ্রিক এই গ্রুপের চাঁদাবাজির টাকা জিসানকে পাঠানো হতো নিয়মিত। এদের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবুল বাশার বাদশা। আর অস্ত্র জমা রাখাত তার ঘনিষ্ঠ এই গ্রুপেরই সদস্য মোহাম্মদ রহিমের কাছে। এই দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
চাক্কু সোহেলসহ বাড্ডার ত্রাস তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপি বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) রাজন কুমার সাহা জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান গ্রুপের অনুসারী চাক্কু সোহেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাদের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গতকাল তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজন কুমার সাহা বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে চাক্কু সোহেল জানায় তাদের গ্রুপের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ রহিমের কাছে একটি বিদেশি রিভলবার রয়েছে। মোহাম্মদ রহিম আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবুল বাশার বাদশার একনিষ্ঠ সহযোগী এবং বাদশার অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণকারী।
বাড্ডা জোনের এসি বলেন, ‘বাড্ডায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিতে যা যা করা লাগবে পুলিশ তাই করবে, সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করার জন্য পুলিশ সদা প্রস্তুত। এই গ্রুপের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

০ Comments