ভিডিওর থাম্বনেইল বা প্রচ্ছদ ও শিরোনামের সঙ্গে ভেতরের বিষয়বস্তুর মিল নেই। তুলে ধরা তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইউটিউবে এ ধরনের ভুয়া ভিডিওর বাজার দেশে গড়ে উঠেছে। এসবের ভিউ বা সাবস্ক্রাইবার ফুলেফেঁপে উঠছে। এতে চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপন পাচ্ছে এবং তাদের আয় বাড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বছরের পর বছর দেখা যায় একই ভুয়া খবর ও মিথ্যা তথ্য-সংবলিত পোস্ট সামনে আসে। বিশেষ করে রাজনীতি, ধর্ম, বিজ্ঞান ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত ভুল তথ্য-সংবলিত পোস্ট বেশি দেখা যায়। ইউটিউবে অনেকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে টাকা আয় করতে মরিয়া। অনলাইনের তথ্য যাচাই ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আবরার ইফাজের ‘ইউটিউবে সস্তা-মিথ্যার জমজমাট ব্যবসা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছরে সাতটি ফ্যাক্টচেক সাইটে প্রকাশিত দুই হাজারের বেশি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে ডিসমিসল্যাব ১০১টি ভুয়া খবর চিহ্নিত করেছে।
ইউটিউবে ভুয়া ভিডিওর কোনোটিতে দাবি করা হচ্ছে– প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা ছেড়েছেন। কোনোটিতে বলা হচ্ছে, সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিয়েছে বা সচিবালয় দখল হয়ে গেছে। টাকার বিনিময়ে বদল হয় এসব চ্যানেলের মালিকানা। কখনও শিক্ষামূলক, কখনও বা ধর্মীয় কন্টেন্ট দিয়ে শুরু করে পরে সেগুলো রাজনৈতিক অপতথ্যের চ্যানেলে পরিণত হয়।
‘সবাই শিখি’, ‘তাজা নিউজ’ ও ‘মিডিয়া সেল ২৪’– এই তিনটি ইউটিউব চ্যানেল রাজনৈতিক ভুয়া তথ্য প্রচারের মাধ্যমে টাকা আয় করছে। ডিসমিসল্যাব এ তিনটি চ্যানেল নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে। দেখা গেছে, তারা যে সময় থেকে ভুল বা অপতথ্যভিত্তিক আধেয় পোস্ট করা শুরু করেছে, তখন থেকে ভিউ এবং সাবস্ক্রাইবার দ্রুত বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই তিনটি চ্যানেলের ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়েছে।
‘সবাই শিখি’ নাম দেখেই মনে হবে এটি শিক্ষামূলক চ্যানেল এবং এটির বিবরণেও এমনটা বলা আছে। এক সময় চ্যানেলটিতে স্কুল পর্যায়ের বিভিন্ন পরীক্ষা বা চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি-সংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ করা হতো। কিন্তু ২০২৩ সালের মার্চ থেকে চ্যানেলটি রাজনৈতিক মিথ্যা তথ্য প্রচার করতে থাকে। এই চ্যানেল থেকে প্রচারিত এ ধরনের অন্তত ৫০টি ভিডিও নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। চ্যানেলটি ইউটিউবে যাত্রা শুরু করেছিল ২০২১ সালের মার্চে। ২০২৩ সালের ৮ মার্চ পর্যন্ত এতে চাকরির বিজ্ঞপ্তি, চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নের সমাধান, সাধারণ জ্ঞানসহ শিক্ষা-সংক্রান্ত ৯০০টিরও বেশি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। যাত্রা শুরুর দুই বছর পর থেকে চ্যানেলটিতে আপলোড করা ভিডিওর ধরন বদলে যায় এবং তারা রাজনীতি নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করতে থাকে। এগুলোর ভিউ তুলনামূলক অনেক বেশি হয়। ২০২১ সালের মার্চ থেকে দুই বছরে ৯৫৯টি শিক্ষামূলক ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত ভিডিওর গড় ভিউ ছিল ২৮৭২। অন্যদিকে ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৫৬টি রাজনৈতিক ভিডিওর গড় ভিউ ১২১৮২৮। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত চ্যানেলটিতে ছিল ৬৫ হাজার সাবস্ক্রাইবার। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চ্যানেলটিতে দেখা যায় ২ লাখ ৫ হাজার সাবস্ক্রাইবার। অর্থাৎ ভুয়া খবর প্রচার শুরুর পর ১০ মাসে চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার তিন গুণেরও বেশি হয়েছে। দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একই মিথ্যা তথ্য বারবার ছড়ানো হয়।
ডিসমিসল্যাবের গবেষণাপ্রধান মিনহাজ আমান সমকালকে বলেন, ‘ভুয়া তথ্য ছড়ানো নিয়ে তেমন বিশদ কাজ বাংলাদেশে হয়নি।

০ Comments