শরবতের বিষক্রিয়ায় শিশুর মৃত্যু, একই পরিবারের ৪ জন হাসপাতালে

by | ফেব্রু ২৭, ২০২৪ | সারাদেশ | ০ comments

বগুড়া ব্যুরো ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিসিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ‘মিশ্র শরবত’ খেয়ে জিমহা নামে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মা’সহ একই পরিবারের আরও তিন শিশু গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছে।

সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বোলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, অসুস্থদের প্রথমে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি দেখে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) স্থানান্তর করা হয়।

অসুস্থরা হলেন- আব্দুল কাইয়ুমের স্ত্রী ও জিমহার মা পারভীন খাতুন (২৮), তার দুই মেয়ে নুরী খাতুন (৭), রিয়া মনি (৮) ও ভাগ্নি মীথিলা খাতুন (৮)। জিমহার মরদেহ সরকারি জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

বেলকুচি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, শবে বরাত উপলক্ষে সোমবার পারভীন খাতুন, তার মেয়ে-ভাগ্নিসহ পাঁচজন রোজা ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যার আগে তারা বাড়ির পাশের নুর ইসলাম ও সাগর আলীর মুদি দোকান থেকে ওরস্যালাইন, টেস্টি স্যালাইন ও অরেঞ্জ ফ্লেভার পাউডার কেনেন। পরে সেগুলো মিশিয়ে শরবত বানিয়ে ইফতার করেন। এর এক পর্যায়ে সবাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের দ্রুত জেলা সদরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।

তিনি বলেন, ওরস্যালাইনের মেয়াদ থাকলেও টেস্টি স্যালাইনের মেয়াদ-তারিখ অস্পষ্ট। দুই দোকানীকে আটক করা হয়েছে।

বেলকুচি থানার ওসি আব্দুল বারেক বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই শিশু জিমহা মারা যায়। অন্যদের ওই হাসপাতালে ভর্তির পর দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফয়সাল আহম্মেদ জানান, ইফতারের সময় মিশ্র কয়েকটি কোম্পানির স্যালাইন খেয়ে বিষক্রিয়ায় শিশুটি মারা গেছে বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তির আগে শিশুটি মারা যায়। অন্যদের অবস্থা গুরুতর মনে হয়েছে।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদুল ইসলাম জানান, আগামীকাল শিশুটির ময়নাতদন্ত করা হবে।

সিভিল সার্জন ডা. রামপদ রায়কে সোমবার রাতে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। তবে, বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোফাখ্খারুল ইসলাম জানান, রোগীরা তার হাসপাতালে না আসায় বিষয়টি তারা মোটেই অবগত নন।

এদিকে, বগুড়া ছিলিমপুর মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আনিছার রহমান চিকিৎসকদের বরাদ দিয়ে সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় জানান, সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করা মা ও শিশুসহ চার জনকে অসুস্থ অবস্থায় শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *