জেলা পরিষদের জমির গাছ কাটল কারা

by | ফেব্রু ২৭, ২০২৪ | সারাদেশ | ০ comments

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের জমিতে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লাগানো তিনটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বাকি পাঁচটি গাছের শাখা-প্রশাখা কেটে দেওয়া হয়েছে। জমির ইজারা গ্রহীতারা বলছেন, তারা গাছ কাটেননি। আর জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা পরিষদের জমিতে মার্কেট নির্মাণের সঙ্গে যুক্তরা গাছ কেটেছেন। গত শুক্রবার ছুটির দিনে খোকসা পৌর এলাকার যুব সংঘ ক্লাব-সংলগ্ন জেলা পরিষদের জমির গাছগুলো কাটা হয়। সোমবার বিষয়টি সবার নজরে আসে।
জানা গেছে, খোকসা যুব সংঘের নামে ইজারা নেওয়া জমিতে আটটি মেহগনি গাছ বেড়ে উঠেছে প্রায় দুই যুগ ধরে। সম্প্রতি পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলর ও দুই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন যুব সংঘ ক্লাবের জমির কিছু অংশসহ পাশের জমি নতুন করে ইজারা নেন। সেখানে ২৩টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে গাছের কারণে ছয়টি ঘর নির্মাণে বাধা তৈরি হচ্ছিল।
গত শুক্রবার তিনটি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার পাশাপাশি অন্যগুলোর শাখা-প্রশাখা কেটে দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে ক্লাবের নামে ১৭০ ফুট জমি ইজারা দেওয়া হয়। সে জমির ৪০ ফুটের ওপর ক্লাবঘর ও ১৩০ ফুট জায়গায় মার্কেটে ১৩টি দোকান রয়েছে। ইজারা পাওয়া জমিতেই লাগানো হয়েছিল গাছগুলো।
সম্প্রতি ২৯ জনের নামে নতুন করে লিজ দেওয়া হয়েছে। তারা মার্কেট নির্মাণের কাজ করছেন। ক্লাব মার্কেটের ব্যবসায়ীরা গাছ কাটায় জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্লাবের কয়েকজন সদস্য ও এক কর্মকর্তা মার্কেট নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ও ইজারা পাওয়া এক ব্যবসায়ীর দিকে অভিযোগের তীর তুলেছেন।
ব্যবসায়ী ওলির ভাষ্য, শুক্রবার বিকেলে তিনি মার্কেটের পেছনে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে গাছ কাটার শ্রমিকরা তাঁকে বাধা দেন। শ্রমিকদের দেখলে তিনি চিনবেন বলে জানান। যুব সংঘের সভাপতি আশরাফুজ্জামান বলেন, তিনি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে গুঁড়িগুলো রাখতে পেরেছেন। ক্লাবের অনেক সদস্যই গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের চেনেন।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী নাজমুল হক লাভলু বলেন, ছয়জন কাউন্সিলর দোকান নির্মাণ করেছেন। তাঁর দোকান আগেই নির্মাণ হয়েছে। গাছ ক্লাব লাগালে তাদেরই পাওয়ার কথা। সেগুলো কাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। লিজ পাওয়া আরেক ব্যবসায়ী রতন কুমার মণ্ডলের ভাষ্য, তারা গাছ কাটেননি। 
৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসেম আলী বলেন, ১২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে তার নামেও ইজারা হয়েছে। তবে তাঁর অংশ কোথায় জানেন না। জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, কাউকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *