নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) ভরাডুবি না হলে জি এম কাদেরের নেতৃত্ব তথা সবকিছু মেনে নিতেন বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ।
তিনি বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করেন, কেন নির্বাচনে অংশ নিলাম না। জাতীয় পার্টির অনেক নিবেদিতপ্রাণ নেতা, যাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল- তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তাদের বাদ দিয়ে তো নির্বাচন করতে পারি না। আমার ছেলের আসনও যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচনে যেতে পারি না। তারপরও সব মেনে নিতে পারতাম, যদি জাতীয় পার্টির ভরাডুবি না হতো। জাতীয় পার্টিকে ধ্বংসের শেষ সীমানায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এটা কীভাবে মানবো?’
শনিবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে জাপার একাংশের বর্ধিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রওশন। তার অনুসারীরা দাবি করেছেন, সভায় জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপার ১৬০ উপজেলা কমিটির, ৬১ জেলা কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নিয়েছেন। বক্তৃতা করেছেন ২০ জন। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে লাঙল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কয়েক প্রার্থী অংশ নিয়েছেন।
রওশন বলেন, অগণিত নেতাকর্মীর দাবির মুখে চেয়াম্যানের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়েছি। আগামী ৯ মার্চ জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলন হবে। এ সম্মেলনের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হতে পারে। সম্মেলন সফল করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বরাদ্দ পেয়েছি। আমরা পুলিশ প্রশাসনের অনুমতিও পেয়েছি। ৯ মার্চ কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের নিয়ে উপস্থিত হবেন। দলের নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন।
জি এম কাদেরপন্থিরা এরশাদের স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন অভিযোগ করে রওশন এরশাদ বলেন, তারা জাতীয় পার্টির পরিচয় দেওয়ার অধিকার রাখেন না। এবারের নির্বাচনী ইশতেহারের মলাট থেকে এরশাদের ছবি মুছে ফেলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধুর ছবি রেখেছে। অথচ জাতীর পার্টির পোস্টারে পল্লীবন্ধু জায়গা পায়নি।
অর্থনীতিতে অশনিসংকেত দেখা দিয়েছে বলেও মনে করেন সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন হয়ে গেছে। সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক অশনিসংকেত দেখতে পাচ্ছি। সরকার মোকাবিলা করতে না পারলে বড় বিপর্যয় আসবে। সামনে রমজান। দ্রব্যমূল্য এখনই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ওৎ পেতে বসে আছে।
সভায় বক্তৃতা করেন জাপার অব্যাহতি পাওয়া কো চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদ প্রমুখ।

০ Comments