সরবরাহ সংকট হেতু বাজারে যখন খেজুরের ‘আগুন দর’, তখন চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন গুদামে ঐ পণ্যভর্তি কনটেইনারের ‘জট’ নিঃসন্দেহে স্বাভাবিক বিষয় হইতে পারে না। মঙ্গলবার সমকালে প্রকাশিত শীর্ষ প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে, গত বৎসর অপেক্ষা এই বৎসর মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরের মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়াছে ১০০ হইতে ৪০০ টাকা। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যটির প্রায় এক সহস্র কনটেইনার খালাসের অপেক্ষায়; যেগুলির মধ্যে চার শতাধিক কনটেইনার দুই মাস যাবৎ অনড়। প্রতিটি কনটেইনারের ২৪-২৫ টন ধারণক্ষমতা অনুযায়ী বন্দরে অপেক্ষমাণ খেজুরের ওজন দাঁড়ায় ২৪-২৫ সহস্র টন, যাহা বলা চলে রমজানে পণ্যটির সম্পূর্ণ চাহিদার প্রায় অর্ধেক। একসঙ্গে এত পণ্য বন্দরে ‘আটকা’ পড়িলে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর বাজারে খেজুরের অগ্নিমূল্য হইবে না কেন? দীর্ঘ কাল বন্দরে বিপুল পরিমাণ খেজুর অনড় থাকিবার নেপথ্যে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদিগের সম্ভাব্য শুল্ক হ্রাস-সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের সুবিধা গ্রহণের আকাঙ্ক্ষাও থাকিতে পারে। তবে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তার এই বক্তব্যও ফুৎকারে উৎক্ষেপের অবকাশ নাই– ‘রাঘববোয়াল’ আমদানিকারকরাই অত্যধিক মুনাফার অভিলাষে এতদিন উহা খালাস করে নাই।

০ Comments