‘মৃত’ ধনেশ্বরীর জীবন্ত বঞ্চনা

by | ফেব্রু ২৯, ২০২৪ | সম্পাদকীয় | ০ comments

দুই বৎসর পূর্বে তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ঘোষণা দিয়াছিলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের সকল প্রবীণ বয়স্ক ভাতার আওতায় আসিবেন। কিন্তু সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন দূর স্থান, বরং ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত প্রবীণদের বাদ দিবার আয়োজন যেন চলিতেছে।

উহা না হইলে, বুধবার সমকালের এক প্রতিবেদন অনযায়ী, দীর্ঘদিন বয়স্ক ভাতাপ্রাপ্তির পরও ৭০ বছর বয়স্ক রংপুরের ধনেশ্বরী রানীর ভাতা তালিকা যাচাইয়ের নামে বন্ধ হইবে কেন? উল্লেখ্য, অতি দরিদ্র এই প্রবীণার স্বামী মৃত। দুই সন্তান অন্যের জমিতে কর্ম করিয়া জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে বয়স্ক ভাতার উপকারভোগী হওয়ার সকল শর্তই তিনি পূরণ করেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৮ সালের জুলাই মাস হইতে ধনেশ্বরী বয়স্ক ভাতার তালিকাভুক্ত হন। তবে সম্প্রতি হঠাৎ তাঁহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতা জমা বন্ধ হইয়া যায়। স্বাভাবিকভাবেই বিচলিত ধনেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের শরণাপন্ন হন। তথা হইতে জানিতে পারেন, ইউনিয়ন পরিষদ তাঁহাকে ‘মৃত’ সাব্যস্ত করিয়া ভাতা বাতিল করিয়াছে। ইউপি চেয়ারম্যানের ভাষ্য, যাচাইকালে অসুস্থতার কারণে ধনেশ্বরী হাজির থাকিতে পারেন নাই। তাই ‘ভ্রান্তিবশত’ তাঁহাকে মৃত দেখানো হইয়াছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী বরং ইউপির লোকদের ধনেশ্বরীর বাড়িতেই গমনের কথা। অতএব ঘটনাকে নিছক ‘ভ্রান্তি’ বলিবার অবকাশ কম। ইহা বরং দায়িত্বের বরখেলাপ।

ইহার জন্য দায়ীগণ শাস্তি না পাইলে আরেক সময় হয়তো ধনেশ্বরী বা অন্য কোনো প্রবীণকে রবিঠাকুরের সেই কাদম্বিনীর ন্যায় মরিয়াই প্রমাণ করিতে হইবে– তিনি মরেন নাই। রাষ্ট্রীয় এ সকল বরাদ্দ পকেটস্থ করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মী অনেকেই বিভিন্ন কারসাজির আশ্রয় লন বলিয়া বিস্তর অভিযোগ রহিয়াছে।

ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করিয়াছেন বলিয়া আমরা জানিয়াছি। সংশ্লিষ্ট সকলে জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টির সুরাহা করিয়া ধনেশ্বরীকে তাঁহার অধিকার ফিরাইয়া দিবেন, ইহাই আমাদের প্রত্যাশা। একই কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি প্রতিহতকরণও গুরুত্বপূর্ণ বলিয়া আমরা মনে করি।

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *