যে কারও রক্তশূন্যতা হতে পারে। বয়স ও লিঙ্গভেদে হিমোগ্লোবিন যখন কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নিচে অবস্থান করে, তখন আমরা একে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা বলি। রক্তশূন্যতা আলাদা কোনো রোগ নয়। তবে রক্তশূন্যতার কারণে শরীরে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হতে পারে। মানবদেহে আয়রন, ভিটামিন বি১২ ও ফলিক এসিডের অভাব বা অতিরিক্ত রক্তপাত ও পাকস্থলীতে ইনফেকশনের কারণে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
হিমোগ্লোবিন কমতে থাকলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শরীরে ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়, স্বল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠে শরীর। হৃৎপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। এমনকি তীব্র রক্তশূন্যতা হার্ট ফেইলিওর পর্যন্ত করতে পারে। তখন গায়ে-পায়ে পানি জমে যায়। শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট লাগে। রক্তশূন্যতার কারণে ঠোঁটের কোণে ক্ষত হয়, জিহ্বায় ঘা হয়। জিহ্বার গোড়ায় থাকা পাপিলা ক্ষয় হয়ে হতে পারে মাংসের মতো লালচে। চুলের ঝলমলে উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়, চুল ফেটে যায়, নখ ফেটে যায়। এর ফলে দেখা দিতে পারে স্নায়বিক দুর্বলতা। দীর্ঘস্থায়ী রক্তশূন্যতায় খাদ্যনালি ওপরের দিক চেপে যায়। ফলে ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। নারীদের মাসিক হয়ে পড়ে অনিয়মিত।
খাদ্যাভ্যাসে নতুন কয়েকটি সহজলভ্য খাবার যুক্ত করলেই রক্তশূন্যতা দূর করা সম্ভব। রক্তশূন্যতা সমস্যা দূর করতে শরীরে আয়রনের পরিমাণ বা ভারসাম্য ঠিক রাখা প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার। রক্তশূন্যতার হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রতিদিন চিনাবাদাম খাওয়া জরুরি। চিনাবাদামে থাকা প্রচুর আয়রন আপনার রক্তশূন্যতা সমস্যা দূর করবে। দিনে মাত্র একটি ডিম খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা রক্তশূন্যতা সমস্যা থেকে দূরে থাকা যাবে সহজেই। খেজুরের পুষ্টিগুণ অতুলনীয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন। তাই রক্তশূন্যতা সমস্যা দূর করতে নিয়মিত খাদ্য তালিকায় খেজুর রাখতে পারেন। টমেটো খুবই সহজলভ্য একটি সবজি, যা রক্তশূন্যতা দূর করতে খুবই কার্যকর। টমেটোতে থাকা আয়রন, ভিটামিন সি এবং লাইকোপেন রক্তশূন্যতাসহ নানা রোগের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে সক্ষম। তাই নিয়মিত খাদ্য তালিকায় টমেটো রাখতে পারেন।
মধু একটি উচ্চ ঔষধি গুণসম্পন্ন ভেষজ তরল। এই মধু রক্তশূন্যতা সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। চিনির পরিবর্তে নানা খাবারে মধু যোগ করতে পারেন। এতে চিনির ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও বাঁচা যাবে; রক্তশূন্যতা সমস্যাও দূর হবে।
লাল মাংস, গিলা, কলিজা, ছোট মাছ, লালশাক, কচুশাক, সবুজ শাকসবজি আর ফলমূলের জোগান বাড়াতে হবে দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায়।
লেখক : মেডিকেল অফিসার, শহীদ আহ্সান উল্লাহ্ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, টঙ্গী।

০ Comments