দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন

by | ফেব্রু ২৯, ২০২৪ | সম্পাদকীয় | ০ comments

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য হইতে আগত সাময়িক আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নামধাম গোপন করিয়া পাসপোর্ট তৈয়ার চক্রের ২৩ সদস্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হস্তে ধৃত হইবার ঘটনায় আমরা বিস্মিত নহি। বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করিয়া এই জনগোষ্ঠীর কাহারও কাহারও জনারণ্যে মিশিয়া যাইবার চেষ্টা পূর্বেও একাধিকবার উন্মোচিত হইয়াছে। এমনকি পাসপোর্ট তৈয়ার করিয়া বাংলাদেশি পরিচয়েই বিদেশে পাড়ি দিবার অঘটনও নেহায়েত স্বল্প নহে। স্মরণে রহিয়াছে, ২০১৯ সালেই রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্রপ্রাপ্তি ও পাসপোর্ট তৈরির অঘটন শনাক্ত এবং উহার নেপথ্যে বৃহৎ চক্রের অস্তিত্ব উন্মোচিত হইয়াছিল। কিন্তু পূর্বের অঘটনগুলিতে জড়িত ছিল কক্সবাজারের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কতিপয় ব্যক্তি। এখন দেখা যাইতেছে, জালিয়াতির জাল দেশব্যাপী বিস্তৃত। রোহিঙ্গা শিবির হইতে দূরবর্তী রাজশাহী, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জ জেলাতেও পৌঁছিয়া গিয়াছে।

জালিয়াতি প্রক্রিয়া কতখানি ‘সুচারু’ হইয়া উঠিয়াছে, সেই চিত্রও স্পষ্ট। এই চক্র প্রথমে পাসপোর্টপ্রত্যাশী রোহিঙ্গাদের লইয়া ইউনিয়ন পরিষদ হইতে জন্মসনদ সংগ্রহ করে। বিশেষত যে সকল দরিদ্র বাংলাদেশি নাগরিকের কখনও বিদেশ গমনের সম্ভাবনা নাই, তাহাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করার পর ঢাকাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট দপ্তরে আনুষঙ্গিক কার্যাবলি সম্পন্ন হয়। বলা বাহুল্য, নিজভূমি হইতে উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর প্রতি ‘মানবতা’ প্রদর্শনার্থে এই সকল অপকর্ম সম্পন্ন হয় না। ইউনিয়ন পরিষদের বাহিরেও জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত দপ্তর ও পাসপোর্ট কার্যালয়ের কাহারও যোগসাজশ ব্যতীত এই সকল অপকর্ম অসম্ভব। আটক চক্রের বাহিরেও অনেকে সক্রিয়, উহা বুঝিবার জন্যও বিশেষজ্ঞ হইবার প্রয়োজন নাই। 

সাময়িক আশ্রিত জনগোষ্ঠী এই প্রকারে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত নথি বাগাইয়া স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরিবর্তে এই দেশেই থাকিয়া যাইবার অভিপ্রায় আর্থসামাজিক দিক হইতে নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। দেশের দরিদ্র নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ‘নকল’ এই কর্মে ব্যবহৃত হইবার বিষয়টিও সংশ্লিষ্টদের জন্য ভবিষ্যতে হয়রানি ও বিড়ম্বনা সৃষ্টি করিবে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্টপ্রাপ্তির বিষয় আর্থসামাজিক উদ্বেগ ছাড়াইয়া নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ বৈ কি। উপরন্তু রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টপ্রাপ্তি বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশি জনশক্তির জন্য বিপাক তৈয়ার করিয়াছে। ব্যক্তিগত সামান্য লাভের অভিলাষে যাহারা জাতীয় স্বার্থ ঝুঁকিতে ফেলিতেছে, তাহাদের সকলকে আইনি বেষ্টনীতে আনয়নপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সর্বাত্মক উদ্যোগের বিকল্প নাই।

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *