ইউনাইটেড হাসপাতাল বন্ধ ও জড়িত চিকিৎসকদের ফাঁসি চান আয়ানের বাবা

by | ফেব্রু ২৭, ২০২৪ | রাজধানী | ০ comments

রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকায় ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে সুন্নাতে খাতনা করাতে গিয়ে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত চিকিৎসকদের ফাঁসি দাবি ও হাসপাতাল বন্ধ চেয়েছেন শিশুটির বাবা শামীম আহমেদ।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে লিখিত অভিযোগ জমা দেন আয়ানের বাবা শামীম আহমেদ। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। 

শামীম আহমেদ বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করায় আমাকে হত্যার ভয় দেখানো হচ্ছে। এই ঘটনায় আমি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। এই ঘটনায় জড়িতদের কেউ ধরতে পারতেছে না। অথচ রামপুরার জে এস হাসপাতালে যে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো; সঙ্গে সঙ্গে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ আমার এই ঘটনার দুই মাস হলেও কেউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। 

আয়ানের বাবা আরও বলেন, ‘আমি একটা কথাই বলতে চাই, আজকে যদি আয়ান হত্যার সঠিক বিচার হতো, তাহলে হয়তো বা রামপুরায় আবার শিশুর খাতনা করাতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতো না। চিকিৎসকরা চাপে থাকত। কিছু কিছু ডাক্তার নামে কসাই; যারা টাকার জন্য এই ধরনের ফুটফুটে হত্যা করছে। আমার যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা পূরণ হবে না। কিন্তু আমি চাই, দেশের মানুষ সচেতন হোক, পাশাপাশি অভিভাবকরা সচেতন হোক।’

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, মামলা করলেও কোনো অগ্রিগতি নেই। জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। ফলে আমরা ডিবির শরণাপন্ন হলাম। ডিবির দুয়ারে আমরা হাজির হলাম। ডিবি যদি একটু সহানুভূতি দেখায়, তাহলে আমরা সুষ্ঠ একটা বিচার পাব। ডিবি থেকে বলা হয়েছে, তারা আমাদের অভিযোগ আমলে নিবে। আমরা আজকে মামলা তদন্তের আবেদন দিব। 

আয়ানের বাবার আবেদন ও খতনা করাতে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে গোয়েন্দা প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলের থানাগুলোতে মামলা হয়েছে। ডিবি পুলিশ ছায়াতদন্ত করছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আগে এলাকায় কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছাড়াই সুন্নতে খতনা করানো হতো। কিন্তু এখন কথিত কিছু অবৈধ ভুয়া ক্লিনিকগুলোতে ছোট ছোট শিশুদের খতনার নামে অ্যানেসথেশিয়া দিয়ে অজ্ঞান করা হচ্ছে। কিন্তু পরে আর জ্ঞান ফিরছে না। এমন কি এসব ক্লিনিকে অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার অনুমোদনও নেই। আমাদের টিম কাজ করছে। যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বাবা-মায়ের কোল থেকে শিশু হারিয়ে যাবে এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। 

আয়ানের বাবাকে হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, আয়ানের বাবা ডিবিতে যদি মামলা তদন্তের আবেদন করলে আমরা তদন্ত করবো। আসলে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লড়াই করে পারবো না। তবে আমরা তার পাশে আছি। শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনার দায় তারা এড়াতে পারে না।

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *